Logo

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বে বিরল উদাহরণ: প্রধান উপদেষ্টা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ২০:১৯
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বে বিরল উদাহরণ: প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

গণভবনে নির্মিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে তিনি জাদুঘরে পৌঁছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং টানা ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিভিন্ন চিত্র ঘুরে দেখেন।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এ ছাড়া গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফিরে আসা ভুক্তভোগী ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহও পরিদর্শনে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খানসহ সংশ্লিষ্ট গবেষক ও দায়িত্বশীলরা অতিথিদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আলোকচিত্র, স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং এবং অডিও-ভিডিও উপকরণ। পাশাপাশি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যও প্রদর্শিত হচ্ছে।

পরিদর্শনের সময় প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র দর্শকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়।

বিজ্ঞাপন

জাদুঘর পরিদর্শন শেষে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই শহীদদের রক্ত এখনও তাজা থাকতেই এই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে—এটি গোটা পৃথিবীর জন্যই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমরা চাই না ভবিষ্যতে আর কোথাও এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। কিন্তু জাতি যদি কখনো পথ হারায়, এই জাদুঘর থেকে তারা দিকনির্দেশনা পাবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের এখানে এসে সময় কাটানো উচিত।

শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধভাবে জাদুঘর পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে একটি দিন কাটালেই মানুষ উপলব্ধি করতে পারবে জাতিকে কী ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আয়নাঘরগুলোতে বসে বা কিছু সময় থেকে সেই নির্মম বাস্তবতা অনুধাবনের সুযোগ রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংসতা যেন আর কখনো ফিরে না আসে—এই বিশ্বাসে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তরুণ ও ছাত্রসমাজ কোনো অস্ত্র ছাড়াই যেভাবে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

জাদুঘর নির্মাণে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অল্প সময়ে এমন একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা দাঁড় করানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, স্বল্প সময়ে এই পর্যায়ে জাদুঘরের কাজ শেষ হওয়া একটি রেকর্ড। অসংখ্য তরুণ-তরুণী আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন—তাদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞ। আরও কিছু সেকশনের কাজ শিগগিরই শেষ হবে এবং নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তার ভাষায়, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু ইতিহাস সংরক্ষণের জায়গা নয়, এটি বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে থাকবে; শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD