ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ

বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান একটি অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এ গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতাই জাতিকে চূড়ান্ত মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং স্বাধীনতার ভিত্তি শক্ত করে।
বিজ্ঞাপন
‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা স্মরণ করেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা, পরে এগারো দফা এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান—এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের জোয়ার তৈরি হয়েছিল। ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী, পেশাজীবী—সব শ্রেণির মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়। ২৪ জানুয়ারি সেই আন্দোলন বিস্ফোরক রূপ নেয়, যা গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, শাসকগোষ্ঠীর দমননীতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনতা সান্ধ্য আইন ভেঙে মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশের গুলিতে ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন। মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ অসংখ্য আন্দোলনকারী জীবন উৎসর্গ করেন। তাদের এই আত্মত্যাগ পরবর্তী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধীনতার লড়াইয়ে তরুণ প্রজন্মকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
আরও পড়ুন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
বাণীতে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি জাতির জন্য চিরস্মরণীয়। তাদের ত্যাগ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের পথ দেখিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ড. ইউনূস সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঊনসত্তরের চেতনা ও মূল্যবোধ ধারণ করে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সবশেষে তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সব শহীদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।








