Logo

শেষ মুহূর্তে বড় চমক, বিদায়ী একনেক সভায় উঠছে ২৬ প্রকল্প

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫:০৫
শেষ মুহূর্তে বড় চমক, বিদায়ী একনেক সভায় উঠছে ২৬ প্রকল্প
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আজ বসছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) শেষ সভা। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প অনুমোদনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাজধানীর নিকেতনে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে এ সভা।

বিজ্ঞাপন

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের এটি অষ্টম একনেক বৈঠক। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এটি ১৯তম সভা। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নির্বাচন সামনে রেখে এটিকেই কার্যত সরকারের শেষ বড় উন্নয়ন বৈঠক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, আজকের সভায় মোট ২৬টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ২৩টি রয়েছে নির্ধারিত কার্যতালিকায়, আর জরুরি বিবেচনায় আরও তিনটি প্রকল্প সরাসরি সভায় তোলা হবে। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।

উপস্থাপনযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১৫টি নতুন প্রকল্প, ৬টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ৫টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়া আরও ১০টি প্রকল্প অবগতির জন্য সভায় উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্প বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পানিসম্পদ ও অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প রয়েছে অনুমোদনের তালিকায়, যা সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, স্বরাষ্ট্র এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দুটি করে প্রকল্প রয়েছে। অন্যদিকে রেলপথ, যুব ও ক্রীড়া, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ-জলবায়ু এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের একটি করে প্রকল্পও তালিকাভুক্ত হয়েছে।

নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং পর্যটন খাতের বেশ কয়েকটি উদ্যোগ। উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলো হলো— রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, মুন্সীগঞ্জের চারটি সড়ক উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্যানিটেশন সুবিধা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের বিকল্প শিক্ষা কর্মসূচি, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল, আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজায়ন প্রকল্প, ‘পরিষ্কার বায়ু’ কর্মসূচি এবং চট্টগ্রামের পারকি সৈকতে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণ।

কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়ানোর প্রস্তাবও এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে— লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন, দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ এবং সিলেটের দুটি টেক্সটাইল প্রকল্প।

বিজ্ঞাপন

ব্যয় ও কার্যপরিধি পুনর্বিন্যাসের জন্য ছয়টি প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, স্মলহোল্ডার কৃষি উন্নয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম, শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা এবং পারকি পর্যটন প্রকল্প।

আজকের বৈঠকে সরাসরি উপস্থাপিত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব। এতে ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা উন্নয়ন এবং আরও একটি প্রকল্পও টেবিলে আসবে।

বিজ্ঞাপন

একনেকে সরাসরি অনুমোদন নয়, বরং অবগতির জন্য তোলা হবে আরও কয়েকটি প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, সরকারি কলেজ উন্নয়ন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সম্প্রসারণ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবকাঠামো বৃদ্ধি, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণ, র‌্যাব সদর দপ্তর নির্মাণ, নড়াইল মহাসড়ক উন্নয়ন এবং সৈয়দপুরে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।

নথি অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প— ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ ও অবলোকন কেন্দ্র’ এবং খুলনায় নভোথিয়েটার স্থাপন— অসমাপ্ত অবস্থায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হবে।

এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন’ করার প্রস্তাবও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ বৈঠক বলা না হলেও নির্বাচন সামনে রেখে এটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ বড় একনেক সভা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ভোটের আগেও আরেকটি সভা ডাকা হতে পারে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD