সংসদ নির্বাচনে মাঠে থাকবেন ৫৫ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নজরদারি ব্যবস্থা নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবার দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বড় পরিসরে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্যানুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার মাধ্যমে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে প্রায় ৫০০ প্রতিনিধি নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণে যুক্ত থাকবেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসির জনসংযোগ শাখা থেকে এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
ইসি সূত্র বলছে, দেশীয় পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়—দুই ধরনের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষক চাওয়া হয়েছে ৭ হাজার ৯৯৭ জন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। তারা যেসব এলাকার ভোটার, সেই আসনে পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর মাধ্যমে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে কমিশন।
নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য করতে বিদেশি প্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও প্রতিনিধি ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে আগের দিন রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি মিশন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য আয়োজিত ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ পর্যবেক্ষক সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণের এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট দেবেন ভোটাররা। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের রায় নির্ধারণ হবে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ভোটের পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়ক হবে। কেন্দ্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ বাড়লে অনিয়ম বা অভিযোগ দ্রুত চিহ্নিত করাও সহজ হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের নির্বাচনে নজরদারির পরিসর আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বড়। ফলে ভোটের দিন মাঠে থাকবে হাজারো চোখ, যারা পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।








