বাংলাদেশিদের জন্য ৩ মাসের সিঙ্গেল-এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

অভিবাসন ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর এবার নতুন ভিসা নীতির ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদের একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস।
বিজ্ঞাপন
সোমবার প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, ‘ভিসা বন্ড’ নামে পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচির আওতায় এই নিয়ম কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে আর্থিক জামানত নিয়ে স্বল্পমেয়াদি ভিসা দেওয়া হবে।
নতুন ব্যবস্থায় ভিসা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদনকারীকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থেকে যান—এমন ‘ওভারস্টে’ প্রবণতা কমাতেই এই উদ্যোগ।
সরকারি হিসাবে, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ওভারস্টের হার বেশি, সেসব দেশকে এই পাইলট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশও সেই তালিকায় রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই কর্মসূচির আওতায় ভ্রমণকারীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ বা নিরাপত্তা জামানত জমা দিতে হতে পারে। ভিসার সব শর্ত ঠিকভাবে পালন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরলে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
দূতাবাস জানায়— ভিসার অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ভিসা ইন্টারভিউ শেষে যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন। সময়মতো বন্ড না দিলে ভিসা কার্যকর হবে না। সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য একবার প্রবেশযোগ্য ভিসা দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
ভ্রমণকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ না করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে আসেন, তাহলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে অর্থ ফেরত পাওয়া জটিল হয়ে যেতে পারে।
ভিসা বন্ডের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশিদের কেবল তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হবে— বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), জন এফ কেনেডি (JFK) এবং ওয়াশিংটন ডুলস (IAD)।
এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো রুট ব্যবহার করলে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ছাড়াও আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডার নাগরিকরাও এই কর্মসূচির আওতায় পড়েছেন। দেশভেদে আলাদা তারিখ থেকে নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়ম চালু হলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। উচ্চ অঙ্কের জামানত ও অতিরিক্ত শর্ত পূরণের কারণে অনেকের পক্ষে ভিসা নেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ভিসা বন্ড মূলত একটি আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থা। কিছু দেশ নির্দিষ্ট ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে জামানত নিয়ে নিশ্চিত হতে চায়, যাতে তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নিজ দেশে ফিরে যান।
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো শিক্ষার্থী, পর্যটক ও অস্থায়ী কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সেটিকে ‘ওভারস্টে’ ধরা হয়।
অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেছিল, যদিও পরে তা স্থগিত বা বাতিল করা হয়। নতুন এই ‘ভিসা বন্ড’ পদ্ধতি বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন









