‘আবু সাঈদ গুলিতে মারা যাননি, গেঞ্জিতে ছিদ্র ছিল না’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবু সাঈদ হত্যার মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় রায়ের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দাবি করেছেন, আবু সাঈদ গুলিতে মারা যাননি। তিনি বলেন, অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে এবং এই ঘটনার প্রমাণ হলো তার গেঞ্জিতে কোনো গুলির ছিদ্র ছিল না।
বিজ্ঞাপন
দুলু জানান, তিনি কনস্টেবল সুজন, এএসআই আমির হোসেনসহ তিনজনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন গুলির আঘাত বা রাবার বুলেটের ক্ষতির বিষয়ে কোনো খণ্ডন করতে পারেনি। এর অর্থ, আবু সাঈদের মৃত্যু মাথায় আঘাতের কারণে হয়েছে।
আইনজীবীর দাবি, ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত পাঁচটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের কোনোটিতেই সিভিল সার্জনের স্বাক্ষর নেই, ফলে তা ত্রুটিপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদ যখন ছয়জন পুলিশ সদস্যের দ্বারা সীমাবদ্ধ অবস্থায় লাঠি দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন, তখন তিনি নিজেকে বাঁচাতে প্রতিরোধ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
দুলু গেঞ্জিতে ছিদ্র না থাকার বিষয়েও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে গেঞ্জিতে কোনো ছিদ্র নেই। প্রসিকিউশনের দায়িত্ব ছিল প্রমাণ করা যে গুলি সামনের না পেছনের অংশে লেগেছে, যা তারা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে আসামিরা খালাস পেতে পারেন।
আইনজীবী আরও বলেন, আবু সাঈদের শরীরে গুলির চিহ্ন থাকলেও কোনো কার্তুজ উদ্ধার হয়নি। এক্স-রে বা রেডিওস্কপি না করার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসামিদের খালাস দিয়ে প্রকৃত দোষীদের বিচার করা হবে।
বিজ্ঞাপন
দুলুর মতে, যে ছয় পুলিশ সদস্য এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের মধ্যে একজনকে মাত্র আসামি করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনসহ সকল দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা প্রয়োজন। তিনি আশা করেন, ট্রাইব্যুনালে সঠিক বিচার সম্পন্ন হলে আবু সাঈদের বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।








