Logo

ব্যাংকের সংকট সামাল দিতে ছাপাতে হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৪:৪১
ব্যাংকের সংকট সামাল দিতে ছাপাতে হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ | ফাইল ছবি

দেশের ব্যাংকিং খাতের গভীর সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিপুল পরিমাণ নতুন মুদ্রা ছাপাতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে হাজার হাজার কোটি টাকার নোট ছাপানো ছাড়া বিকল্প ছিল না।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, কিছু ব্যাংকের মালিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব হয়নি, কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে তাদের নামে কার্যত কোনো শেয়ারই ছিল না। একই সঙ্গে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে জ্বালানি আমদানির বকেয়া প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের দায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাত থেকে ব্যাপক অর্থপাচার হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া বহু কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মাসের পর মাস মজুরি দিতে হয়েছে সরকারকে। এসব কারণে রাষ্ট্রকে বড় অঙ্কের ‘অদৃশ্য ক্ষতি’ বহন করতে হয়েছে, যার সরাসরি প্রতিফলন পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

বর্তমান বাজেট বাস্তবতা তুলে ধরে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, যে পরিমাণ কর আদায় হচ্ছে, তার প্রায় পুরোটা সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন কার্যক্রম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করতে সরকারকে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বিদেশি ঋণ ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এসব ঋণের সামান্য অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হলেও বড় একটি অংশ চলে যায় বিদেশি পরামর্শকদের পেছনে। এ কারণেই অপ্রয়োজনীয় ও ঋণনির্ভর প্রকল্প বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যথায় দেশ ঋণের ফাঁদে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, অতীতে সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে কৌশল অনুসরণ করা হতো, এখন আর সে ধরনের কঠোর অবস্থানের প্রয়োজন নেই। মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামাতেই হবে বা নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে ধরে রাখতে হবে— এমন কোনো বাধ্যতামূলক লক্ষ্য নেই।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বীকার করেন, মূল্যস্ফীতি যতটা দ্রুত কমার কথা ছিল, বাস্তবে তা ততটা কমেনি। তবে সামগ্রিকভাবে এর প্রবণতা নিম্নমুখী। দেশের অর্থনীতি এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যেখানে অতীতের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয়।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD