খসড়া গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ সরকারের বিদায়ী পরিহাস

খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশকে দেশের মুক্ত গণমাধ্যম বিকাশে জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস হিসেবে বর্ণনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত উভয় কমিশনের গঠন, স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সবকিছুই সম্পূর্ণভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন। এ ধরনের কাঠামো মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচারের বিকাশের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আরও পড়ুন: ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা রোধে ব্যর্থতা স্পষ্ট। মেয়াদের শেষ সময়ে খসড়া দুটি অধ্যাদেশ সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
বিজ্ঞাপন
সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা
টিআইবি জানায়, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের সীমাবদ্ধতা এবং সম্প্রচার মাধ্যমের কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অভাব বিবেচনায় নিয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের সুপারিশ করেছিল। তবে সরকার সেই সুপারিশকে উপেক্ষা করে দুটি পৃথক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি পৃথক সরকারি নিয়ন্ত্রণমূলক প্রতিষ্ঠান গঠন অপরিণামদর্শী। বরং একটি অভিন্ন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশনই সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।
বিজ্ঞাপন
খসড়া অধ্যাদেশ স্থগিতের আহ্বান
টিআইবি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তড়িঘড়ি করে খসড়া অধ্যাদেশ কার্যকর না করা উচিত। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে, নতুন সংসদ গঠনের পর অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাধীন ও অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে উদ্যোগ নিতে।
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, একটি প্রকৃত স্বাধীন কমিশন দেশের গণমাধ্যম ও সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করবে এবং মুক্ত সাংবাদিকতা ও স্বাধীন সম্প্রচারের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।








