ভারতীয় মিডিয়া ও আওয়ামী লীগ প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়াচ্ছে

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অভিযোগ করেছেন, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ নিয়মিতভাবে বাংলাদেশকে ঘিরে অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘পলিসি কনক্লেভ অন মিসইনফরমেশন: চ্যালেঞ্জেস টু গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক নীতিসংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিয়ে বাইরে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তিনি একটি ‘স্মুথ ট্রানজিশন’ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান বলেন, তথ্য সংবাদের কাঁচামাল হলেও ইচ্ছাকৃত বিকৃতি বড় সমস্যা। গণমাধ্যমকে পক্ষপাতমুক্ত হয়ে জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অতীতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আত্মসমালোচনার প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেন।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এআই যুগে তথ্য বিভ্রান্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়ই এর প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের সম্পাদক মাহফুজুর রহমান গণমাধ্যম নীতিমালার ঘাটতির কথা তুলে ধরে দক্ষ সাংবাদিকতা ও নীতিগত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বিজ্ঞাপন
মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং দুর্বল মিডিয়া লিটারেসি—এই তিনটি উপাদান মিলে অপতথ্যের বিস্তার বাড়াচ্ছে। সমাধান হিসেবে সমন্বিত নীতি, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় মিডিয়া লিটারেসি অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শেষে ২০২৫ সালের সেরা চারজন প্রতিবেদককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ‘এম আই পাটোয়ারী বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।








