এক পুলিশ আমাকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে রাগে সরিয়ে দিয়েছিলাম: সাজিদ

শাহবাগে শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের লাঠি ও কাঁদানে গ্যাসের আঘাতে আহত হওয়া মো. সাজিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সরকারি কবি নজরুল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সাজিদ, পুলিশের দফায় দফায় হামলার মধ্যে স্থির থেকে প্রতিবাদের এক নীরব প্রতীক হয়ে উঠেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালীন মুহূর্তে তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরছিল, পিঠ ও পায়ে আঘাত ছিল, তবুও তিনি অটল থাকেন। এক পর্যায়ে একজন পুলিশ সদস্য তাকে বাঁচানোর জন্য জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করলে রাগ ও অভিমানে তিনি তাকে সরিয়ে দেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
মো. সাজিদ গণমাধ্যমকে বলেন, আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম, পুলিশ ক্রমাগত আঘাত করছিল। পরে একজন পুলিশ আমাকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে আমি রাগে তাকে সরিয়ে দিই। বলেছি, ‘আপনারা আগে মারার আদেশ দিয়ে পরে আবার মায়া দেখাবেন, এটা হাস্যকর’। পরে সহযোদ্ধারা আমাকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান, মাথায় সেলাই করা হয়, এখন আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ আছি।
বিজ্ঞাপন
এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও প্রতিষ্ঠানের সহপাঠীদের মধ্যে সাজিদের সাহসী অবস্থানের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। কবি জিয়া হক লিখেছেন, সাজিদরা তখন এভারেস্ট হয়ে যায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ায় কেবল সাজিদের মতো ‘অসহায়’ সন্তান।
এদিন পুলিশের হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা এবং সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করলে পুলিশের বাধা দেওয়া হয়।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এই পুলিশের আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টি।








