Logo

সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা: এড়িয়ে গেলেন ডিএমপি কমিশনার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫:০৪
সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হামলা: এড়িয়ে গেলেন ডিএমপি কমিশনার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলন দমনে নিজে লাঠিচার্জ করার বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে সেদিন কর্তব্যরত মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের ওপরে গণহারে পুলিশের হামলা, মারধর, নির্যাতনের ঘটনায় প্রশ্ন শুনেও উত্তর এড়িয়ে গেলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে এ অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেই যাইনি, আইজিপিকে ফোন করেছি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্দোলন দমনে ডিএমপি কমিশনার নিজে কেন লাঠিচার্জ করলেন এবং উনার লাঠিচার্জের পর পুলিশ সদস্যরা অতিউৎসাহী হয়ে সাংবাদিকদের বেধড়ক পিঠিয়েছে ও ক্যামেরা ভাঙচুর, ল্যাং মেরে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটায় পুলিশ। এমনটা কেন হলো ও যেসব পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যমুনাতে সরকার প্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে এ অবস্থায় ডিএমপি কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে? আমি শুধু নিজেও যায়নি আইজিপিকে ফোন করেছি, ‘ভাই আমি একা পারতেছি না ইউ শুড কাম হেল্প মি’। যতক্ষণে উনি এসেছে আমরা ততক্ষণে আন্দোলকারীদের সরিয়ে দিয়েছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনারা এটা লেখেন, গত ১৫ মাসে ১০-২০টা লোক রাস্তা ব্লক করে ফেলে, প্রেগন্যান্ট মহিলা ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে যেতে পারে না, হার্ট অ্যাটাকের রোগী যেতে পারছে না, পরীক্ষার্থী যেতে পারছে না, বিমানবন্দরের পেলেন মিস করতেছে, এগুলো লেখেন।

তিনি বলেন, শহরটাকে নিরাপদ রাখেন, মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখেন। আপনারা কথায় কথায় রাস্তা বন্ধ করেন, এটা কি মিথ্যা বলছি আমি? আপনিই (প্রশ্নকারী সাংবাদিক) তো মুভমেন্ট করতে পারেন না।

বিজ্ঞাপন

কমিশনার আরও বলেন, “ওই দিন ছুটির দিন ছিল। আমি ইনফর্মাল ড্রেসে ছিলাম, চুল কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ খবর পেলাম আন্দোলনকারীরা ঘিরে ধরেছে। কোনো রকম প্রস্তুতি না নিয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছালাম, অবস্থা ভয়াবহ ছিল। যেখানে সরকার প্রধান থাকেন, সেখানে যদি আন্দোলনকারীরা ঢুকে যায়, তাহলে পুলিশ কমিশনারের বসে থাকার সুযোগ আছে কিনা?

তবে সাংবাদিকদের ওপরে পুলিশের হামলা মারধরের ঘটনায় কোনো উত্তর দেননি তিনি। জড়িত অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত কিংবা ব্যবস্থা সম্পর্কেও কোনো মন্তব্য করেননি ডিএমপি কমিশনার।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সিটিতে দুই ধরনের কেন্দ্র থাকবে— ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘সাধারণ’। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভাগ করা হয়েছে, যেখানে ১৬১৪টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ৫১৭টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কামরাঙ্গীরচর, সাতারকুল ও বেরাইদের মতো দুর্গম এলাকা, যেখানে যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন এবং রাস্তাঘাট সরু, সেখানে পুলিশের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। এই ধরনের দুর্গম এলাকায় মূল পরিকল্পনার বাইরে আরও ৩৭টি ভোট কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে ৭ জন করে পুলিশ অফিসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ধরনের হুমকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো থ্রেট নাই, পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো চলছে। ক্রাইম নাই, রাস্তা ব্লকিং নাই। ঢাকা শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ বললেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীর শহরে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার।

পুলিশের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক অবস্থান পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, গত ১৫ মাস ধরে তিনি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই সময়ে পুলিশ কোনো বিশেষ দলের হয়ে কাজ করেনি। পুলিশের কাজের ধরনই প্রমাণ করে যে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করছে না। পুলিশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সাংবাদিক, ডাক্তার এবং প্রকৌশলীসহ সব পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন যে, পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গণমাধ্যম কর্মীরাও রয়েছেন এবং কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তারা করছেন না।

ভোট কারচুপি ও গুজবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালটের মুডিগুলো গণনা করা হবে। বক্সে যতগুলো ব্যালট থাকবে তা অবশ্যই মুডির সংখ্যার সঙ্গে মিলতে হবে; যদি বাহির থেকে বাড়তি ব্যালট ঢোকানো হয়, তবে তা গণনায় ধরা পড়বে এবং সেই ফলাফল কেউ মেনে নেবে না। তিনি এই ধরনের অপপ্রচারকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD