১৯৯১-২০২৬ : রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে ওয়েবসাইট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো যখন ধারাবাহিকভাবে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করছে, ঠিক সেই সময় গবেষণামূলক উদ্যোগ হিসেবে ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার নিয়ে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে ঘোষিত ইশতেহারগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ইশতেহার’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালনা করছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং গবেষক এম এম মুসা।
গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি ওয়েবসাইটটি পাওয়া যাবে votemanifesto.com ঠিকানায়। এখানে ১৯৯১ সালের পর থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং কোন কোন কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছিল—তার একটি সমন্বিত সংগ্রহ উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ডাটাবেজের মূল উদ্দেশ্য হলো গবেষক, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা, যেখানে তারা বিভিন্ন সময়ের নির্বাচনী ইশতেহার তুলনামূলকভাবে পর্যালোচনা করতে পারবেন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত লক্ষ্য, আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বা পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সহজ হবে।
গবেষণা প্রকল্পের বর্ণনায় বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো নির্বাচন। সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নাগরিকদের রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নেন এবং প্রায় প্রতিটি দলই ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান ও পরিকল্পনা তুলে ধরতে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে।
নির্বাচনী ইশতেহারকে নাগরিকদের প্রতি দলের অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রকল্পে বলা হয়, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যে দল সরকার গঠন করে, তাদের পরবর্তী কার্যক্রম মূল্যায়নের অন্যতম মানদণ্ড হয়ে ওঠে এই ইশতেহার।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি
উল্লেখ্য, অধ্যাপক আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (এআইবিএস)-এর প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে তিনি উপদেষ্টা পদ-মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে এম এম মুসা একজন লেখক ও গবেষক। পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতা করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করে আসছেন।








