Logo

জাপানের সঙ্গে ইপিএ দেশের জন্য যুগান্তকারী: প্রধান উপদেষ্টা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৯:২৭
জাপানের সঙ্গে ইপিএ দেশের জন্য যুগান্তকারী: প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

জাপানের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য যুগান্তকারী সম্ভাবনা তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

প্রেস সচিব জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিকে সরকার একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখছে। প্রধান উপদেষ্টার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে, যা রপ্তানি সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

শফিকুল আলম বলেন, ইপিএ কার্যকর হলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৪০০ পণ্য শুল্ক ছাড়াই প্রবেশের সুযোগ পাবে। এর ফলে বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জাপানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ার ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের পথও এতে সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে বিশ্বে সুরক্ষাবাদের প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্যের প্রচলিত ধারা থেকে অনেক দেশ সরে এসে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য বাধা সৃষ্টি করছে। এমন প্রেক্ষাপটে জাপানের সঙ্গে এই ধরনের প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাক্সেস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি বাংলাদেশের বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং শূন্য বা খুব কম শুল্কে বিদেশি বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD