আমাদের কাছে যা পেয়েছেন তার এক ইঞ্চিও কম নেবেন না: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, তথ্য জানার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে কোনোভাবেই এক ধাপও পিছিয়ে দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে যাঁরাই প্রেস সেক্রেটারি বা প্রেস উইংয়ের দায়িত্বে আসুন না কেন, যারা আসবেন আপনারা আমাদের কাছ থেকে যা পেয়েছেন তার এক ইঞ্চিও পরে কম নেবেন না। এটা যেন ধারাটা বজায় থাকে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, প্রজাতন্ত্র কি কাজ করছে, প্রজাতন্ত্রের সরকার প্রধান কি কাজ করছে, এটার সর্বোচ্চ জানার অধিকার সবার। আপনার আমার সবার আপনার দায়িত্ব হচ্ছে এই নিউজটাকে জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়া। আর আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আপনার কাছে সবসময় এসে এই নিউজটা দেওয়া।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, প্রজাতন্ত্রের কার্যক্রম ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। সেই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব গণমাধ্যমের, আর সরকারের দায়িত্ব হলো সময়মতো ও স্বচ্ছভাবে সেই তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরা। এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধ বজায় থাকলেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।
বিজ্ঞাপন
ব্রিফিংয়ে তিনি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন। শফিকুল আলম জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা–২০২৬-এর খসড়া এবং জাতীয় মৎস্য নীতিমালা–২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাতার আর্ম ফোর্সেস ও বাংলাদেশ আর্ম ফোর্সেসের মধ্যে কর্মকর্তা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের ডেপুটেশন সংক্রান্ত একটি ইমপ্লিমেন্টিং অ্যাগ্রিমেন্ট অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনের আলোকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সুপারিশকৃত অংশের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, এটি একটি গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো হিসেবে প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ সব ধারার যোগ্যতাকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার শুরু ও শেষ ধাপ নির্ধারণ এবং এক শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের জন্য একটি সুস্পষ্ট পথরেখা তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের গতিধারা নির্ধারণ সহজ হবে।
আরও পড়ুন: তাসনিম জারাদের নিয়ে যা বললেন আসিফ আকবর
তিনি আরও জানান, ১৯৯৮ সালের জাতীয় মৎস্য নীতিমালা রহিত করে নতুন জাতীয় মৎস্য নীতিমালা–২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে টেকসই মৎস্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ব্রিফিংয়ের শেষাংশে প্রেস সচিব আবারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকার ও গণমাধ্যমের এই সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত থাকলেই জনগণ সঠিক তথ্য জানতে পারবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।








