Logo

ভোটের লড়াইয়ে ২০২৮ প্রার্থী, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫০ শতাংশ: ইসি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২০:০৮
ভোটের লড়াইয়ে ২০২৮ প্রার্থী, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫০ শতাংশ: ইসি
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮১ জন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে এবার মাঠপর্যায়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইসি জানায়, সারা দেশে সশরীরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৪২ হাজার ৬৫৯টি কেন্দ্রে। পাশাপাশি ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের ব্যালট গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪২ হাজার ৯৫৮টি। ইন-পার্সন ভোটিংয়ের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধেককে ‘সাধারণ’ এবং বাকি ৫০ শতাংশকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ।

বিজ্ঞাপন

পোস্টাল ভোটের অগ্রগতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার জানান, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ৭ লাখ ৩ হাজার ব্যালট পৌঁছেছে। বাকি ব্যালটগুলো পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যেই পৌঁছানোর কথা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণেও থাকছে বড় পরিসরের ব্যবস্থা। দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে অনুমোদন পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৩৩০ জন। এ ছাড়া ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছেন, যা আরও বাড়তে পারে। সংবাদ সংগ্রহে নিবন্ধন করেছেন ৯ হাজার ৭০০ জন সাংবাদিক, যাদের মধ্যে ১৫৬ জন বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী।

বিজ্ঞাপন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। এর পাশাপাশি মাঠে থাকবেন ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। নিরাপত্তা জোরদারে এবার প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন (ইউএভি) ও বডি ওর্ন ক্যামেরা। একই সঙ্গে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনায় মাঠে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৫ লাখের বেশি পোলিং কর্মকর্তা। আগামীকাল সকাল থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

সংশোধিত বিধি অনুযায়ী এবার ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উল্লেখ থাকবে। নির্বাচনের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটগ্রহণের অগ্রগতির তথ্য জানানো হবে—মোট চার দফায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একসঙ্গেই ঘোষণা করা হবে। অধিকাংশ আসনের ফল মধ্যরাতের মধ্যেই পাওয়া যাবে বলে আশা করছে ইসি। পরদিন সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফর্ম-১৮-তে স্বাক্ষর করার পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৫০০টির বেশি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ৮৫০টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কুমিল্লা, যশোর ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

ভোটার উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। বিশেষ করে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের দিকে মানুষের যাত্রা ভালো ভোটার টার্নআউটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সব রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট উৎসব সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD