জনমত বাক্সে প্রধান উপদেষ্টাকে সাধারণ মানুষের ৪০ হাজার ‘চিঠি’

দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ, দাবি ও স্বপ্নের এক বিরল দলিল এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে। ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, বাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র সংস্কার—সবকিছুই উঠে এসেছে মানুষের হাতে লেখা চিঠি ও মন্তব্যে। কোনো মধ্যস্থতা বা রাখঢাক ছাড়াই ৪০ হাজার ২০৬ জন নাগরিক সরাসরি তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার কাছে।
বিজ্ঞাপন
‘দেশের চাবি, আপনার হাতে’—এই আহ্বানকে সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গণভোটকে ঘিরে দেশব্যাপী চালানো সচেতনতামূলক কর্মসূচির অংশ ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। ‘ভোটের গাড়ি’র সঙ্গে সংযুক্ত বিশেষ ‘জনমত বাক্সে’ জমা পড়ে হাজারো মানুষের হাতে লেখা ছোট ছোট চিরকুট, যেখানে প্রতিফলিত হয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে তাঁদের ভাবনা।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকায় জমা পড়েছে সর্বাধিক ১০ হাজার ২১৬টি মন্তব্য। এরপর রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট বিভাগ থেকে এসেছে ১ হাজার ৬৫১টি মতামত।
বিজ্ঞাপন
এই প্রচারণার আওতায় ভোটের গাড়ি দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদরের পাশাপাশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাসহ মোট ২ হাজার ১৬৯টি স্থানে পৌঁছায়।

মানুষের মন্তব্যে উঠে এসেছে নানামুখী বাস্তবতা। গাজীপুরের ১০ বছর বয়সী রাফা লিখেছে, সে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে নিরাপদ পরিবেশে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যোগ্য নীতি-নির্ধারক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে।
কুমিল্লার দেওয়ান সালাহউদ্দিন সুষ্ঠু ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছেন। চট্টগ্রামের গোলাম রাব্বানি তাঁর কর্মস্থল থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ঠাকুরগাঁওয়ের এক দিনমজুর লিখেছেন নিত্যপণ্যের দাম ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ক্ষোভের কথা। বরিশালের সাদিক তুলে ধরেছেন শিক্ষকদের মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা। পিরোজপুর থেকে পাঠানো এক মন্তব্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে।
দিনাজপুরের কয়েকজন তরুণী লিখেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র সংস্কার, নারী ও শিশু অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার কার্যকরের আহ্বান।
বিজ্ঞাপন

এই বিপুল ও আন্তরিক মতামত পড়ে আবেগাপ্লুত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থা রাষ্ট্রের জন্য অমূল্য সম্পদ।
তিনি নির্দেশ দিয়েছেন—প্রশংসা, সমালোচনা, পরামর্শ কিংবা ক্ষোভ—সবকিছুই কোনো ধরনের বাছবিচার বা সম্পাদনা ছাড়াই সংরক্ষণ করতে হবে, যেন মানুষের কণ্ঠস্বর অক্ষতভাবেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিফলিত হয়।








