বিপ্লবে জিতেছে জেন-জি, ভোটে আধিপত্য পুরোনো রাজনীতিবিদদেরই

বাংলাদেশে আগামী দুই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রক্তাক্ত বিপ্লবের পরে এবারের ভোটকে রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলাদা অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, আশা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ভোটের এই আয়োজন সযত্নে নজরে রাখছে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে সরানোর পর নতুন প্রজন্ম জেন-জি বিজয়ী হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে তাৎপর্যপূর্ণ নেতৃত্বের জায়গায় অংশ নিচ্ছেন মূলত পুরনো রাজনৈতিক নেতারা।
সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, বিপ্লবের পর ক্ষমতার শূন্যতা সত্ত্বেও দেশের প্রধান সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ৬০ বছর বয়সী চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামের ৬৭ বছর বয়সী আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
সিএনএন সাদমান মুজতবা নামের এক বিক্ষোভকারীর কথাও তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা যে ন্যায্য ও সমতার দেশ চাইছিলাম, সেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে লিঙ্গ, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ পাবে। নীতি ও সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, হাসিনার সময়ে দীর্ঘ ১৭ বছর দমন-নিপীড়নের পর বিএনপি প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এবারের নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থানও উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ সময় নিষিদ্ধ থাকার পর দলটি আবার সক্রিয় হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক মঞ্চে তাদের পুনরাগমন চোখে পড়ার মতো।
বিজ্ঞাপন
সিএনএন প্রতিবেদনে এনসিপির ভূমিকার কথাও বলা হয়েছে। বিপ্লবের পরে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়া নতুন দলটি, ডিসেম্বরে জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধায় অনেককে চমক দিয়েছে।
লন্ডনের সোয়াস ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস প্রফেসর নাওমি হোসেন বলেছেন, জোটের অন্যতম কারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এছাড়া সংসদে প্রবেশের সম্ভাবনাও জোটের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়।
বিজ্ঞাপন
তবে এই জোটের কারণে এনসিপি কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারেনি। এর ফলে দলের অনেক সদস্য অসন্তুষ্ট। তাদের মধ্যে নাফিজা জান্নাত বলেন, আমরা সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে কোনো নারীকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও এবারের নির্বাচনে কিছু পুরনো নেতার আধিপত্য রয়েছে, তবে সাধারণ ভোটারদের আগ্রহ, নতুন রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন পরিবর্তনশীল উপাদান ভোটের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যত নেতৃত্বের দিকটি এখন তরুণ প্রজন্মের আশা ও প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তির দ্বন্দ্বের মধ্যে ঝুলে আছে।
সূত্র: সিএনএন








