ঈদের আমেজে সদরঘাট, ভোট দিতে বাড়ি ফেরার ঢল

ভোটকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাটে দেখা গেছে অভূতপূর্ব জনস্রোত। ভোটের অধিকার প্রয়োগের আকাঙ্ক্ষায় রাজধানী ছাড়ছে মানুষ—এই দৃশ্য যেন শুধু যাত্রা নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। যাত্রীদের ভিড় দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, এটি যেন ঈদের সময়ের দৃশ্য। জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আশায় শত কষ্ট উপেক্ষা করে গ্রামের পথে ছুটছেন নগরবাসী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদরঘাট টার্মিনালে দাঁড়িয়ে পটুয়াখালীগামী তরুণ সোহেল আহমেদ বলেন, ঈদের থেকেও বেশি ভিড় মনে হচ্ছে। সকালে পরিবার নিয়ে বের হয়েছি। পাঁচ ঘণ্টা সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ীতে দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের টিকিট পাইনি। শেষে লঞ্চই ভরসা। জীবনে কখনও ভোট দিতে পারিনি, তাই এবার যেভাবেই হোক বাড়ি গিয়ে ভোট দেবো—এই আনন্দের তুলনা নেই।
মোহাম্মদপুরে সবজি বিক্রি করা সোহেল স্ত্রী ও মাকে নিয়ে সকাল ৯টায় রওনা হন। অতিরিক্ত ভাড়া ও যানবাহন সংকটে সারাদিন ভোগান্তির পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে লঞ্চে চড়ে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। তার লক্ষ্য একটাই—জীবনের প্রথম ভোট দেওয়া।
সংক্ষিপ্ত আলাপে সোহেল জানান, ২০১১ সালে ভোটার হলেও কখনও ভোট প্রয়োগ করতে পারেননি। ২০১৪ সালে ভোটকেন্দ্রে গেলেও ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। এরপর আর চেষ্টা করেননি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, এবার মনে হচ্ছে নিজের ভোটটা নিজেই দিতে পারবো। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারলেই এত কষ্ট সার্থক হবে।
সোহেলের মতোই প্রথমবার ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছেন লাইলি আক্তার। সদরঘাটে কথা হলে বরিশালগামী এই তরুণী বলেন, জীবনের প্রথম ভোট—এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অফিস থেকে চার দিনের ছুটি নিয়েছি। যানজটের কথা ভেবে দুপুরেই বের হয়েছি। মিরপুর থেকে সদরঘাট আসতেই চার ঘণ্টা লেগেছে। কষ্ট হলেও ভোটটা নিজে দিতে পারলেই আনন্দ।
বিজ্ঞাপন

ভোলাগামী যাত্রী রাজিব আহসান পরিবার নিয়ে সদরঘাটে এসেছেন। একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজিব বলেন, এবারের নির্বাচন যেন সারাদেশে ভোটের উৎসবে পরিণত হয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষও কষ্ট করে গ্রামে যাচ্ছে শুধু নিজের ভোটটি দিতে। গত কয়েকটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বলেই এবার এই আবেগটা বেশি। সবাই দেশের পরিবর্তন চায়, শান্তিপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে সেই আশা বাস্তবায়ন হোক।
যাত্রীদের ভিড়ে খুশি সদরঘাটের ব্যবসায়ীরাও। ফল বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই ঈদের মতো ভিড়। কালও অনেক মানুষ ছিল, আজ তো আরও বেশি। ঈদের সময় ছাড়া এমন ভিড় সচরাচর দেখা যায় না। ভিড় বাড়ায় আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের পর পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। অধিকাংশ মানুষের গন্তব্য ছিল সদরঘাট। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালে যাত্রীচাপ আরও বাড়তে থাকে।
বিজ্ঞাপন
যাত্রী চাপ সামাল দিতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, সদরঘাট থেকে চলাচলকারী ৩২টি রুটে নিয়মিত লঞ্চের পাশাপাশি আজ দ্বিগুণ সংখ্যক লঞ্চ চালু করা হয়েছে। বরিশাল রুটে যেখানে সাধারণত দুইটি লঞ্চ চলে, সেখানে আজ সাতটি লঞ্চ ছাড়বে। বেতুয়াসহ অন্যান্য রুটেও বিশেষ লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে প্রতিটি লঞ্চঘাটে বড় আকারে ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই।








