নির্বাচনের মাঠে ২০৯৮ নির্বাহী ও ৬৫৭ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনের গণভোটকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশে বিপুল সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটের মাঠে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং নির্বাচনি অপরাধ দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ইতোমধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় কাজ শুরু করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনি অপরাধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মোট ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পাঁচ দিনের বিশেষ দায়িত্বে মাঠে রয়েছেন। তাদের দায়িত্বকাল শুরু হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে, যা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন
ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন—এই পুরো সময়জুড়ে তারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন। নির্বাচনি সহিংসতা, অনিয়ম কিংবা ফৌজদারি অপরাধের ঘটনা ঘটলে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে তাদের হাতে।
আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। এর বাইরে রিটার্নিং অফিসারদের চাহিদা অনুযায়ী স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সরাসরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি করবেন এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বিজ্ঞাপন
দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনি এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন। বিশেষ করে ভোটের দিন গোপন কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার, বুথ দখলের চেষ্টা, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা ভোটদান থেকে বিরত রাখার মতো অভিযোগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসি বলছে, একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিচারিক ও নির্বাহী এই বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রশাসনিক ও আইনি প্রস্তুতির সমন্বয়ে ভোটের দিন সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কমিশন।








