মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন ৮ লাখ কর্মকর্তা: ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠেয় গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে কমিশন।
বিজ্ঞাপন
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার মোট সংখ্যা ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন। প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার—সব স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
সারাদেশে নির্বাচন পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার। তাদের সহায়তায় কাজ করবেন ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার। তারা নিজ নিজ এলাকায় ভোট আয়োজন, তদারকি এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবেন।
বিজ্ঞাপন
দেশব্যাপী মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্বে থাকবেন। সে অনুযায়ী ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার প্রস্তুত রয়েছেন।
এ ছাড়া ভোটকক্ষ পরিচালনায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন ব্যালট বিতরণ, ভোটগ্রহণ, গণনা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ—সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন তারা।
নিরাপত্তা ও ঝুঁকি বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেছে নির্বাচন কমিশন। মোট কেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ২৭৩টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা বিশেষ নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা হবে এসব কেন্দ্রে।
নির্বাচনি কর্মকর্তাদের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, আচরণবিধি, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয়ে তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, বিশাল এই জনবল ও সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতির সমন্বয়ে ভোটের দিন সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে।








