প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবন প্রস্তুত হচ্ছে

নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার জন্য সরকারি বাসভবন প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার বর্তমান বাসভবন যমুনা-কেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধী দলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত সরকারি ভবনটিও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এরই মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরিত হওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফিরে তিনি বর্তমানে গুলশানে তার মায়ের বাসভবন ফিরোজার পাশে একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে আবাসিক এলাকায় সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং সংসদ ভবনের দূরত্ব বিবেচনায় তার বাসস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে দলীয় সূত্রগুলো স্পষ্ট কিছু না জানালেও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যমুনাকে প্রস্তুত রাখার কাজ চলমান রয়েছে।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, যমুনার অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো প্রয়োজন বা চাহিদা এলে তা-ও পূরণ করা হবে।
এর আগে তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানরা যমুনাতেই বসবাস করেছিলেন। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সংসদ ভবন চত্বরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার একটি প্রস্তাব ওঠে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ডিসেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, হেয়ার রোডে যমুনার পাশেই ২৯ নম্বর সরকারি ভবনটি বিরোধী দলীয় নেতার বাসভবন হিসেবে নির্ধারিত। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং পরে খালেদা জিয়া সেখানে অবস্থান করেছিলেন। ২০০১ সালের পর দীর্ঘ সময় এই বাসভবনটি ব্যবহার হয়নি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভবনটি পুনরায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নতুন প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবনে থাকবেন নাকি ব্যক্তিগত বাসায়—তা পুরোপুরি নির্ভর করবে তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর। প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সরকারিভাবেই সম্পন্ন রাখা হচ্ছে।








