৫৩ দিনের ব্যবধানে ভোটার থেকে ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাত্র ৪৯ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্য এবং ৫৩ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। এত স্বল্প সময়ে ভোটার থেকে সরকারপ্রধান হওয়ার নজির দেশে এর আগে দেখা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬—এই দুই আসন থেকে জয়ী হন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে তিনি প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পরে দলীয় সংসদীয় বৈঠকে তাকে নেতা নির্বাচিত করা হলে তিনি পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
আইন অনুযায়ী একাধিক আসনে বিজয়ী হলে একটি আসন রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেই বিধান মেনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে নির্ধারিত সময়ে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
দেশে ফেরার সময়রেখাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। মাত্র দু’দিন পর, ২৭ ডিসেম্বর তিনি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ৫৩ দিনের মধ্যেই তিনি দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: দুই বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন
বিজ্ঞাপন
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ২৭ ডিসেম্বর তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রবাসে থেকেও ভোটার হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি দেশে ফিরে ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ঠিকানাকে স্থায়ী ঠিকানা এবং ধানমন্ডির ১৫ নম্বর এলাকাকে বর্তমান ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও একই ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ নির্বাসনের পর দ্রুত সময়ের ব্যবধানে ভোটার হওয়া, নির্বাচনে অংশ নেওয়া, জয়ী হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়া—এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য নজির হয়ে থাকবে।








