Logo

মতিঝিলে লুকোচুরি, গুলিস্তানে পুলিশের সামনেই নতুন নোট বাণিজ্য

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ মার্চ, ২০২৬, ১৯:১২
মতিঝিলে লুকোচুরি, গুলিস্তানে পুলিশের সামনেই নতুন নোট বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে নতুন নোটের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু এবার সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নতুন নোট না ছাড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ বেচাকেনার এক অদৃশ্য বাজার। বিশেষ করে মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাতজুড়ে প্রকাশ্যে পুলিশের চোখের সামনেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে নতুন টাকা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বাইরে থেকে শান্ত মনে হলেও ভেতরে চলছে নতুন নোটের গোপন বেচাকেনা। ফুটপাতে ছেঁড়া টাকার দোকানের আড়ালে বসে থাকা কয়েকজন বিক্রেতা গোপনে নতুন নোট বিক্রি করছেন। ক্রেতা এলেই ব্যাগ খুলে বের করা হচ্ছে বান্ডিলভর্তি নতুন টাকা।

তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই বদলে যাচ্ছে দৃশ্যপট। বিক্রেতারা দ্রুত সরে পড়ছেন, আবার কিছু দূরে গিয়ে দরদাম ঠিক করে লেনদেন সম্পন্ন করছেন। এ যেন এক প্রকার ‘চোর-পুলিশ খেলা’, যেখানে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছে অবৈধ ব্যবসা।

বিজ্ঞাপন

এক বিক্রেতা জানান, ব্যাংক থেকে নতুন নোট না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের কাছেই আসছেন। ফলে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে দামও। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০০ টাকার নতুন নোটের একটি বান্ডিল কিনতে অতিরিক্ত ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। অন্যান্য মূল্যমানের নোটেও একই চিত্র—প্রতি বান্ডিলে কয়েকশ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

অন্যদিকে গুলিস্তান এলাকায় পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট ও খোলামেলা। স্পোর্টস মার্কেটের সামনে ফুটপাতে সারি সারি নতুন নোট সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল নিয়ে জমজমাট বাজার বসেছে সেখানে। আশ্চর্যের বিষয়, সড়কের পাশে পুলিশ টহল দিলেও এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে তেমন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।

নতুন নোট কিনতে আসা ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ব্যাংকে গিয়ে নতুন নোট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ফুটপাতের বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে একই নোটের দাম আরও বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের আগে নতুন নোটের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তারা উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার এটিকে মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে দেখছেন, যেখানে এই সময়টাতেই মূল আয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নতুন নোট কোনো পণ্য নয় এবং তা বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তা বা অন্য কারও বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নোটের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ এবং সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়েই গড়ে উঠেছে এই কালোবাজার। একই সঙ্গে নগদ অর্থনির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঈদকে ঘিরে নতুন নোটের চাহিদা এবার রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে তৈরি করেছে এক অঘোষিত বাজার—যেখানে আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD