ঈদযাত্রায় ট্রেনে উপচে পড়া ভিড়, ছাদেও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সৃষ্টি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়। নিরাপদ ও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য অনেকেই ট্রেনকে বেছে নেওয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই যাত্রীচাপ বাড়ছে। বুধবার ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করতে স্টেশনে জড়ো হন হাজারো মানুষ।
বিজ্ঞাপন
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্টেশনে আসতে থাকেন যাত্রীরা। কেউ হাতে ব্যাগ, কেউ আবার ছোট শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ যাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে ট্রেনের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না পেয়ে অনেকেই ছাদে উঠে ঝুঁকি নিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে স্টেশন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। র্যাব, পুলিশ, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা চোখে পড়ে। প্রবেশপথ ও প্ল্যাটফর্মে তল্লাশি এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সকাল পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশন থেকে ছয়টি ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সময়সূচি মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ট্রেনের ছাদে যাত্রা প্রসঙ্গে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত ছাদ বা বাম্পারে যাত্রী ওঠা নিরুৎসাহিত করা হয়। কিন্তু আসনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি যাত্রী উপস্থিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মানবিক কারণে তাদের বাধা দেওয়া যাচ্ছে না, যদিও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
স্টেশনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই যাত্রীরা এসে অপেক্ষা করছেন। কেউ প্ল্যাটফর্মে বসে আছেন, কেউ পরিবার নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। শিশুদের মধ্যেও ঈদে বাড়ি ফেরার উচ্ছ্বাস স্পষ্ট।
এক যাত্রী জানান, ঈদের সময় বাসে ভিড় ও ভাড়া বেশি থাকায় তারা ট্রেনেই যাত্রা করছেন। আরেক নারী যাত্রী বলেন, ভোরে এসে আগে থেকেই অপেক্ষা করছেন যেন কোনো ঝামেলায় পড়তে না হয়। তিনি নিজে ভেতরে বসতে পারলেও তার স্বজন ছাদে করেই যাত্রা করছেন।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদ উপলক্ষে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের শৃঙ্খলা মেনে চলা এবং বৈধ টিকিট নিয়ে ভ্রমণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিন সকাল সোয়া ৭টা পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশন থেকে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর প্রভাতী এবং নারায়ণগঞ্জ কমিউটার ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যায়। এছাড়া প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ ছিল তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস।








