জামাতার মরদেহ উদ্ধার হলেও ২২ ঘণ্টা পরও নিখোঁজ শ্বশুর

রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় নতুন করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে একটি পরিবারের ওপর। দুর্ঘটনায় জামাতার মরদেহ উদ্ধার হলেও প্রায় ২২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো খোঁজ মেলেনি শ্বশুরের।
বিজ্ঞাপন
নৌ-পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মিরাজ ফকির (৫০) নিখোঁজ হন। তার জামাতা সোহেল ফকির (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া মিরাজের মেয়ে রুবা ফকির গুরুতর আহত হয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রায় একদিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ মিরাজ ফকিরকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আপাতত উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবারও অভিযান শুরু করা হবে।
বিজ্ঞাপন
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বৃহস্পতিবার জানান, এ ঘটনায় একজন নিহত, একজন আহত এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নৌ-পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর দুই লঞ্চের কয়েকজন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করা হতে পারে।
উদ্ধার তৎপরতা প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সদরঘাট স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জহিরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। তবে নদীর তীব্র স্রোত, লঞ্চের ভিড় এবং যাত্রীদের চাপের কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ডুবুরিরা পানির নিচে নামার চেষ্টা করলেও স্রোতের কারণে বারবার বাধার মুখে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সকাল ৮টার পর কিছুটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু জোয়ার-ভাটা এবং লঞ্চের চাপের কারণে ডুবুরিদের জন্য পানির নিচে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে আপাতত উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে টহল কার্যক্রম চালু রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে যাত্রী ওঠানামার সময় পেছন থেকে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চটি ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। রুবা আক্তার নামে এক নারী ধাক্কার সময় নদীতে পড়ে গেলে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঈদকে সামনে রেখে নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।








