দ্রুত কমছে অকটেন-পেট্রোলের মজুত, বাড়ছে সংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের মজুতে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত দ্রুত কমে আসায় সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়াও এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। নির্ধারিত সময়ে তেল সরবরাহ না পাওয়ায় দেশের মজুত কমতে শুরু করেছে। একইসঙ্গে গ্যাস উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় কনডেনসেটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র অনুযায়ী, দেশে সাধারণত ৪৫ দিনের জ্বালানি তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের ক্ষেত্রে মার্চ মাসে চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টনে। গত ২১ মার্চ পর্যন্ত মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার টন, যা বর্তমান সরবরাহ হারে প্রায় ১২ দিন চলার মতো।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে অকটেনের মজুত উদ্বেগজনকভাবে কমে এসেছে। দেশে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৮০০ টন অকটেন রয়েছে, যা দৈনিক সরবরাহ অনুযায়ী মাত্র ৮ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। পেট্রোলের ক্ষেত্রেও একই চিত্র—বর্তমান মজুত প্রায় ১৬ হাজার টন, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ১১ দিন সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল এবং বিমান চলাচলের জ্বালানি জেট ফুয়েলের মজুত তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও সেগুলোর ক্ষেত্রেও চাপ বাড়ছে। ফার্নেস অয়েলের মজুত দিয়ে প্রায় ১৮ দিন এবং জেট ফুয়েল দিয়ে ২৪ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে পেট্রোল ও অকটেনের একটি বড় অংশ কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত হয়, যা গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু গত এক বছরে দেশে গ্যাস উৎপাদন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। ফলে কনডেনসেট উৎপাদনও কমে গেছে, যা সরাসরি জ্বালানি উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
যদিও দেশে পেট্রোলের চাহিদা মূলত অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমেই পূরণ করা হয়, অকটেনের ক্ষেত্রে এখনো আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। গত অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লে এই সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মজুতদারিতে জড়িত থাকতে পারে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ মিলছে না।
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনা জরুরি। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








