Logo

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে জ্বালানি শূন্যতার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৩৫
বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে জ্বালানি শূন্যতার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের দামে পড়ছে, যা কয়েক দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর দেশগুলো, বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলো চাপে পড়ছে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে জ্বালানির বড় একটি অংশই আমদানি করতে হয়, ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে দ্রুত সংকট দেখা দিতে পারে।

দেশের ভেতরেও এর প্রভাব ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। কিছু এলাকায় পাম্পে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এর প্রভাব সড়ক পরিবহনেও পড়েছে, ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান অনিশ্চয়তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থল এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই পথটি বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শেষে দেশের প্রধান পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রায় ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ ছিল, যা দিয়ে সীমিত সময়ের জন্য জ্বালানি সরবরাহ চালানো সম্ভব। এই মজুদ দিয়ে আনুমানিক দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময় চাহিদা মেটানো যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ, এবং প্রয়োজনে কিছু খাতে কার্যক্রম সীমিত করার পরিকল্পনা। পাশাপাশি ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির মজুদও দ্রুত কমে আসছে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিকল্প উৎস থেকে আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।

এ অবস্থায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে এবং সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD