সরকারের সাফল্য তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের সাফল্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রথম তিন মাসে নেওয়া নানা উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় সেবায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, সরকার গঠনের তিন মাস সময় খুব দীর্ঘ না হলেও প্রতিটি দিনই জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সুযোগ। স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী পালনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, এবার কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে সম্পৃক্ত না করেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে। এটিকে তিনি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
ঈদ উপলক্ষে সরকারের নেওয়া ১০টি বিশেষ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। এর মধ্যে ছিল নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা, চামড়া খাতের ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা।
তিনি বলেন, ছুটি দীর্ঘায়িত করায় ঘরমুখো মানুষের চাপ একদিনে তৈরি হয়নি, ফলে মহাসড়কে যানজট তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল। যদিও কিছু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা দেশবাসীকে শোকাহত করেছে।
বিজ্ঞাপন
শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যাংক ও মালিকপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
কোরবানির পশুর বাজার প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, দেশে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে ১ কোটি ২৩ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু ছিল। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ বন্ধ এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারির কারণে দেশীয় খামারিরা উপকৃত হয়েছেন। তবে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে কিছু প্রান্তিক খামারি কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি বলেও তিনি স্বীকার করেন।
ঈদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে অধিকাংশ এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে নজরদারি ছিল। পাশাপাশি নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে। নদীপথে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নেও বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযানের ফলে পশুর বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি এবং বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল বলে দাবি করেন মাহদী আমিন। এছাড়া ঈদের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শিশু রামিসা হত্যা মামলা: কে এই ডলার?
বিজ্ঞাপন
চামড়া খাতের ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন মুখপাত্র। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ থাকা সত্ত্বেও ঈদকেন্দ্রিক অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময়ের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কয়েক মাসে দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও সুশাসন, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।








