Logo

গুমের অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৩৩
গুমের অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে গুম ইস্যুতে আলোচনার সময় কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধী আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবে না; তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৫ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) গুম প্রসঙ্গে আবেগঘন বক্তব্য দেন এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশের বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে ব্যারিস্টার আরমানের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, তিনি শুধু সহকর্মীই নন, ব্যক্তিগতভাবেও তার নিকটজন। দীর্ঘ সময় গুমের শিকার হওয়ায় তার কষ্টের বিষয়টি তিনি অনুধাবন করেন। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে শত শত মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিরা দেশের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই এই ধরনের অপরাধের বিচার নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর।

বিরোধী দলের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যা দেন, বর্তমান মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এগুলো অপরিবর্তিত থাকলে ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ব্যাহত হতে পারে।

আইনমন্ত্রী জানান, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এসব অপরাধের তদন্ত ও বিচার আইসিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, বর্তমান অধ্যাদেশে গুমের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা নির্ধারিত থাকায় তা যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, তদন্ত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত সময়সীমা ভুক্তভোগীদের জন্য অতিরিক্ত হয়রানির কারণ হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি বিশেষ কমিটিতে আলোচনা হয়েছে এবং আইনগুলোকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সংসদের চলতি অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময় বা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যারিস্টার আরমানসহ ভুক্তভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আইনের বিভিন্ন ধারার মধ্যে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সবশেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, গুমের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD