দুই দশকের পর্যটন উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে

দেশের পর্যটন শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগামী ২০ বছরকে সামনে রেখে পর্যটন খাতের উন্নয়নে একটি বিস্তৃত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন তিনি। অধিবেশনের ১১তম দিনের সকালের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
এক সংসদ সদস্য দেশের পর্যটন খাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নতুন পর্যটন অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় খাত। এই খাতের উন্নয়নে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়ন, দক্ষ ট্যুর গাইড তৈরি, রন্ধনশৈলীভিত্তিক পর্যটনের প্রসার, কমিউনিটি ও গ্রামীণ পর্যটনের উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকার ইতোমধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’র একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে, যেখানে আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে পর্যটন ক্লাস্টার গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় পর্যটনের বিকাশের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ও এই পরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৩০টির বেশি জেলায় স্বীকৃত পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। তবে পর্যটনের সুবিধা সব অঞ্চলে সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি জেলার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: দুপুরে দিল্লিতে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ-ভারত
এদিকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প নিয়েও সংসদে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিবারভিত্তিক উন্নয়নের ধারণা থেকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারী শিক্ষা প্রসারেও সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








