Logo

হজ ফ্লাইট নিয়ে বিমানের দুশ্চিন্তা, সংকটে শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:৩৫
হজ ফ্লাইট নিয়ে বিমানের দুশ্চিন্তা, সংকটে শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের পবিত্র হজের প্রথম ফ্লাইট শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১৮ এপ্রিল। তবে নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। উড়োজাহাজের ঘাটতি ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান বিদেশে মেরামতে থাকায় ফ্লাইট সূচি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছে মাত্র ১৪টি উড়োজাহাজ। অথচ যাত্রীচাহিদা ও নতুন রুটের চাপ সামলাতে প্রয়োজন অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি বিমান। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বহরে নতুন উড়োজাহাজ না যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যস্ত রুটগুলোতে ফ্লাইট বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, বিমানের একটি বড় বোয়িং উড়োজাহাজ বর্তমানে ইতালির রোমে মেরামতের জন্য অবস্থান করছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গত ৮ এপ্রিল দেশে ফেরার কথা থাকলেও সেটি এখনও ফেরেনি।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১১ এপ্রিলের মধ্যে বিমানটি বহরে যুক্ত না হলে হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিমান কর্মকর্তাদের মতে, প্রশস্ত দেহের (ওয়াইডবডি) উড়োজাহাজের অভাব এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হজ মৌসুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই ধরনের বিমানের অনুপস্থিতি ফ্লাইট সূচি ঠিক রাখা কঠিন করে তুলবে।

এ বিষয়ে অ্যাভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞ ও বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিজ্ঞাপন

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন ছাড়া বিমান তার স্বাভাবিক কার্যক্রম ধরে রাখতে পারবে না। বহরে ঘাটতির কারণে সংস্থাটি ব্যবসায়িকভাবে পিছিয়ে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

তবে এ সংকটের মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এ নিয়ে নিয়মিত বৈঠক চলছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন। ইতোমধ্যে তাদের ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এসব যাত্রীর বড় একটি অংশ পরিবহনের দায়িত্ব রয়েছে বিমানের ওপর। তবে শেষ মুহূর্তে উড়োজাহাজ সংকট কাটিয়ে ওঠা না গেলে হজযাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD