সরকারি গুদামে ১৭.৭১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

দেশের সরকারি খাদ্যগুদামে বর্তমানে ১৭ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এর মধ্যে চাল রয়েছে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন এবং গম রয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার মেট্রিক টন। তিনি এই মজুত পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, দেশে খাদ্যশস্যের মজুত স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে চাল ও গম সংগ্রহ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে আমদানি, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ক্রয় এবং অভ্যন্তরীণভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। বোরো ও আমন মৌসুমে চুক্তিবদ্ধ রাইস মিলের মাধ্যমে চাল সংগ্রহের পাশাপাশি কৃষি সহায়ক কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ও গম কেনা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন—মোট ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ দশমিক ৫৭ লাখ মেট্রিক টন চাল দেশে পৌঁছেছে এবং বাকি ২ দশমিক ৪৩ লাখ মেট্রিক টন চাল আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
একই সময়ে গম আমদানির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক দরপত্রে ৫০ হাজার মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬ দশমিক ৬০ লাখ মেট্রিক টনসহ মোট ৭ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টনের বিপরীতে ইতোমধ্যে ৭ দশমিক ০৩ লাখ মেট্রিক টন গম দেশে পৌঁছেছে। বাকি প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন গমবাহী একটি জাহাজ আগামী ২৪ এপ্রিলের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
খাদ্যমন্ত্রী আরও জানান, আসন্ন বোরো সংগ্রহ মৌসুম (মে থেকে আগস্ট) সামনে রেখে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাপক পরিমাণ খাদ্যশস্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ১২ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের প্রস্তাব রয়েছে, যা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উৎস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল ও গম সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে, যাতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা যায়।








