পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ১১ মামলা পরিচালনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং এ লক্ষ্যে একাধিক আইনি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মামলায় অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য তুলে ধরেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীত সরকারের আমলে বিভিন্ন উপায়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স পাচার হওয়া অর্থের উৎস ও অবস্থান শনাক্ত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে মামলাগুলো চিহ্নিত করছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান। এই অর্থ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও আইনি সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে।
এ উদ্দেশ্যে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (এমএলএটি)’ স্বাক্ষর এবং ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর)’ বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে ১১টি যৌথ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল পাচারকৃত অর্থের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, আদালতের আদেশে ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। বিদেশেও প্রায় ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ আদালতের নির্দেশে জব্দ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থ পাচার সংক্রান্ত এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া সম্পদ দ্রুত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে, যা এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীত সরকারের আমলে সংঘটিত দুর্নীতি ও অর্থপাচারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








