Logo

কোনো ছাড় নয়, শুরু হবে সাঁড়াশি অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:১৩
কোনো ছাড় নয়, শুরু হবে সাঁড়াশি অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ও সমন্বিত বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন সমাপ্তির পর জেলা-উপজেলা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে উত্থাপিত মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্তোরাঁর আড়ালে অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সংসদের বর্তমান অধিবেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশে একটি সমন্বিত অভিযান শুরু হবে। এ অভিযানের মূল লক্ষ্য হবে তরুণ সমাজকে ধ্বংসাত্মক আসক্তির কবল থেকে রক্ষা করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর কিছু অভিজাত এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অবৈধ সিসা বার, মাদক স্পট ও জুয়ার আসর গড়ে উঠেছিল। বিশেষ করে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় এসব অবৈধ কার্যক্রম বিস্তারের সুযোগ পেয়েছিল। বর্তমানে এসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, চলতি মাসের ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা, সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম এবং অবৈধ উপকরণ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু অভিযান চালালেই হবে না, অবৈধ ব্যবসায়ীরা যাতে ঠিকানা বদলে বা কৌশল পাল্টে আবারও সক্রিয় হতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজন স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত বা মদতদাতা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে সরকারের অবস্থান একেবারেই আপসহীন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে একাধিক অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। একইসঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সবিহীন অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনও কাজ করছে। প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এ বিশেষ অভিযানে কেন্দ্র থেকে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ করবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুলিশ, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে অংশ নেবে। সরকারের লক্ষ্য একটাই—মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধ করে সমাজকে নিরাপদ রাখা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD