Logo

চার জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৯ জনের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:১৬
চার জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৯ জনের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে একদিনেই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলায় পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন কৃষক; হাওর ও খোলা মাঠে কাজ করার সময় তারা বজ্রপাতের শিকার হন।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে নেত্রকোণা ও সুনামগঞ্জে। এই দুই জেলায় তিনজন করে মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন মারা গেছেন।

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান আব্দুল মোতালিব (৫৫)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আরও দুজনের সঙ্গে নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

একই জেলায় সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরের ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান মো. শুভ মন্ডল। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং মৌসুমি কৃষিশ্রমিক হিসেবে সেখানে কাজ করছিলেন।

খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনাগুলোর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে সব মৃত্যুই বজ্রপাতে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলেও বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে তিন কৃষকের প্রাণ। সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন। একই সময়ে জেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রাঘাতে মারা যান জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২)।

এছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আরও তিনজন কৃষক আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনা তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

হবিগঞ্জে পৃথক দুটি ঘটনায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার গড়দার হাওরে নিজের জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে মারা যান কৃষক মকছুদ আলী (৪০)।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশের খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান আব্দুস সালাম (৩৫)।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, নিহত মকছুদ আলীর পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মারা গেছেন মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবক। উপজেলার খাসের হাট এলাকায় দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কৃষিকাজও করতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টির আগে শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় মৌসুমি কৃষিকাজের সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ে অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আবহাওয়া খারাপ হলে কৃষক, জেলে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD