Logo

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে হচ্ছে চুক্তি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৫৫
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে হচ্ছে চুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রত্যাশিত তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ ধাপে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সদরদপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য উঠে আসে। এভিয়েশন ও ট্যুরিজম খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানান, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতা এলেও কিছু বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরে অন্তত তিন মাস সময় লাগতে পারে। এরপর টার্মিনালটির বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাতে ছয় মাস থেকে এক বছরের মতো সময় প্রয়োজন হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হওয়ার কিছু সময় পর সীমিত পরিসরে টার্মিনাল চালু করা যাবে।

সরকার নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

বিমানবন্দর পরিচালনায় হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এক বিমানবন্দর থেকে অন্য ব্যবস্থায় দ্রুত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হয়। সে কারণে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালটি ব্যবহার না হওয়ায় স্থাপিত যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তত ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও কিছু সময় অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিট প্রসঙ্গে তিনি জানান, সর্বশেষ অডিট হয়েছিল ২০১৮ সালে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী অডিট সম্পন্ন হয়নি। তবে চলতি বছরের অক্টোবরে একটি পরিদর্শক দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ অডিট ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সম্পন্ন হতে পারে।

মতবিনিময় সভায় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের সদস্য এবং বেবিচকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD