দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকলেও তা আরও উন্নত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বিজ্ঞাপন
লিখিত প্রশ্নে এমপি জানতে চান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সেবা বাড়াতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরের প্রবেশ ও বাহির পথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বহুস্তরভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করে যাত্রী ও স্থাপনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অপতৎপরতা প্রতিরোধেও নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ অপরাধ দমনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ বস্তু শনাক্তে উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমন, সাইবার নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যাত্রীসেবাকে সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নিরাপত্তা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর মনিটরিং এবং সহায়তা ডেস্ক চালুর মতো উদ্যোগও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সরকারের এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে আরও নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।








