ড. মাসুদের সাথে সংসদ ভবনে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমধর্মী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তার ব্যবস্থাপনায় উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সরাসরি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এই শিক্ষামূলক সফরে শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখানো হয়। এ সময় এমপি নিজেই তাদের সঙ্গে থেকে ভবনের স্থাপত্যশৈলী, অধিবেশন কক্ষ এবং সংসদের কার্যপ্রণালি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। পুরো আয়োজনজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ, কৌতূহল ও আনন্দঘন পরিবেশ, যা সফরটিকে করে তোলে স্মরণীয়।
পরিদর্শন শেষে ড. মাসুদ বলেন, এটি তার জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। তিনি বাউফলবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এই আসন শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে—এ উদ্যোগ সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই অংশ।
বিজ্ঞাপন
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই যোগ্য, সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। তিনি সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি তিনটি মূল বার্তা তুলে ধরেন—মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলা এবং দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে নেতৃত্বের অভাব নেই, তবে নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। তাই নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া, মাদকমুক্ত, জ্ঞানভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সংসদ পরিদর্শন তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রেরণা যোগাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
বিজ্ঞাপন
সংসদ ভ্রমণ শেষে শিক্ষার্থীদের অভিব্যক্তিতে ছিল উচ্ছ্বাস। অনেকেই এটিকে জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। কেউ বলেছেন, এত অল্প বয়সে সংসদ ভবন দেখার সুযোগ পাওয়া অবিশ্বাস্য; আবার কেউ এটিকে স্বপ্নপূরণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এমন ভ্রমণ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ ধরনের ব্যতিক্রমী আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলবে, যা ভবিষ্যতে একটি সচেতন ও উন্নত সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।








