ঢাকার প্রথম নারী এসপি সংসদ সদস্যের স্ত্রী শামীমা পারভীন

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) পদে প্রথমবারের মতো একজন নারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নতুন দায়িত্ব পাওয়া এই কর্মকর্তা শামীমা পারভীন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। শামীমা পারভীন বর্তমানে পুলিশ অধিদপ্তরে এসপি পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে তাকে ঢাকার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
২০০৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করা শামীমা পারভীন তার প্রায় ১৮ বছরের কর্মজীবনে দেশ-বিদেশে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত জীবনে তার অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ। হাইতিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ১৩৯ সদস্যের একটি নারী পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্ব দেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার নেতৃত্বগুণের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া রাজধানীর ডিএমপির ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরে সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা ও ক্রীড়া উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও তিনি সমানভাবে সমৃদ্ধ। শামীমা পারভীন ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ ২০২২’ অর্জন করে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাউন্টার টেরোরিজম এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজিতে এমএসএস ডিগ্রি লাভ করেন।
বিজ্ঞাপন
পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি ইতালির COESPU থেকে ‘প্রোটেকশন অব সিভিলিয়ান’ এবং সিডনি ইউনিভার্সিটি থেকে ‘উইমেন লিডারশিপ’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
নড়াইল জেলার বাসিন্দা শামীমা পারভীন বর্তমানে ঢাকা অফিসার্স ক্লাব ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবেও যুক্ত আছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে ফরিদা খানমকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ২২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একই মাসে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে নারী কর্মকর্তাদের নিয়োগকে প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।








