সিগন্যাল ভাঙলেই অটো নোটিশ, হাজিরা না দিলে জারি হবে পরোয়ানা

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও কঠোর করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সিসি ক্যামেরায় ধারণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো জেনারেটেড) নোটিশ পাঠানো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক ও চালকের ঠিকানায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির হয়ে জরিমানা পরিশোধ না করলে পরবর্তী ধাপে সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৩ মে) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং নাগরিক সেবা সহজ করতে মহানগরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশনবিহীন বা ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সিসি ক্যামেরার ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নোটিশ তৈরি করছে। এরপর তা রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ পাওয়ার পর অভিযুক্তদের ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক অথবা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে।
তবে নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কেউ হাজির না হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে হওয়া মামলার জরিমানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেউ যদি এ ধরনের মামলার কথা বলে অর্থ দাবি করে বা প্রতারণার চেষ্টা করে, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ডিএমপি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল ও মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে লালবাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো, অবৈধ পার্কিং এবং লেফট লেন দখল করে রাখার মতো অপরাধ শনাক্ত করে ডিজিটালভাবে মামলা করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং যানজট কমানোর পাশাপাশি আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।








