Logo

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শোক শক্তিতে বদলে এগিয়ে যেতে হবে: ডা. জুবাইদা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই, ২০২৬, ১৯:১৮
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শোক শক্তিতে বদলে এগিয়ে যেতে হবে: ডা. জুবাইদা
ছবি: সংগৃহীত

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ট্র্যাজেডিতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে। তবে এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং আহতদের সাহস ও দৃঢ়তা থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি’ উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তিনি বলেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। যারা আপনজন হারিয়েছেন, তাদের শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। জাতি তাদের এই বেদনায় সমানভাবে শামিল রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও তারা যেভাবে সাহস ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছেন, তা দেশের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তার ভাষায়, এই কঠিন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তাদের আরও শক্তিশালী করে তুলবে। পাশাপাশি অন্যের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর মানবিক শিক্ষা দেবে।

বিজ্ঞাপন

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সময় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), রহমান ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও প্রতিনিধিদের সহায়তার জন্যও ধন্যবাদ জানান ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সেই সংকটময় মুহূর্তে অসংখ্য মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন। মানবতার এমন দৃষ্টান্ত জাতির জন্য গর্বের এবং এটি প্রমাণ করে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনো অটুট রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা একা নন। দেশের মানুষ তাদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এই সহমর্মিতা ও সহযোগিতা তাদের কঠিন সময় পার হতে শক্তি জোগাবে।

অনুষ্ঠান শেষে ডা. জুবাইদা রহমান আহত শিক্ষার্থী ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই সংঘটিত মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি দেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি শিক্ষিকা মাহেরিন চৌধুরীর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা জাতি চিরদিন মনে রাখবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকরা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি দেশের চিকিৎসকরাও নিষ্ঠার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি জানান, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসাসেবা ও স্কিন ব্যাংকের প্রশংসা করেছে।

নিহত ও আহতদের পরিবারের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডা. জুবাইদা রহমান বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন। পাশাপাশি তিনিও মন্ত্রিসভার বৈঠকে পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে আগুনে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। উন্নত দেশগুলো সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্মরণসভায় বক্তব্য দেন নিহত সমন্বয়ক মাহেরিন চৌধুরীর স্বামীও। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি। তিনি নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদ তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, সেদিনের ভয়াবহ স্মৃতি এখনো তাকে তাড়া করে বেড়ায়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় তিনি অনেকটাই সুস্থ হলেও তার বাম হাতে এখনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি সরকারের কাছে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

বিজ্ঞাপন

স্মরণসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, ভারতের হাইকমিশনার, ড্যাবের নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক, আহত শিক্ষার্থী, নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া দুর্ঘটনার সময় উদ্ধার ও সেবামূলক কাজে বিশেষ অবদান রাখা কয়েকটি ব্যক্তি ও সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD