Logo

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চর্চা বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নেবে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুন, ২০২৬, ২১:২৯
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চর্চা বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নেবে
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চর্চা ভবিষ্যতে তাদের আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজে অনুষ্ঠিত “স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং” অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। আয়োজিত বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডা. জুবাইদা রহমান।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণামনস্কতা এবং উদ্যোক্তা দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ঢাকা জেলা প্রশাসন এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিযোগিতার জেলা পর্যায়ে অংশ নেওয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে হলিক্রস উচ্চ বিদ্যালয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুইজন শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন সদস্য ছিলেন। জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় মোট ১৮৫ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে অবহেলা ও অযত্নের কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু প্রতিকূল সেই বাস্তবতাও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনোবল ভাঙতে পারেনি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তারা নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজেদের এগিয়ে নিয়েছে এবং নানা ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

সায়েন্স প্রজেক্টের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে শিক্ষার্থীদের অসংখ্য ঘণ্টার পরিশ্রম, গবেষণা, চিন্তা ও সৃজনশীলতা জড়িয়ে আছে। একটি ভালো উদ্ভাবন বা বৈজ্ঞানিক প্রকল্প রাতারাতি তৈরি হয় না; এর জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, মেধা ও নিরলস প্রচেষ্টা। শিক্ষার্থীদের সেই শ্রম ও নিষ্ঠার প্রতিফলনই আজকের এই চমৎকার প্রকল্পগুলো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্ভাবনী চর্চা ভবিষ্যতে তাদের আরও বড় সাফল্যের পথে এগিয়ে নেবে।

তরুণদের উৎসাহিত করে তিনি আরও বলেন, কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময়, সৃজনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ করে তুলতে হবে। এমন শিক্ষাব্যবস্থাই আগামী প্রজন্মকে মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকারী ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণামনস্কতা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগই আগামী দিনের বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রে পরিণত করবে। তরুণদের সৃজনশীল ধারণা ও উদ্ভাবনকে বাস্তব রূপ দিতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং এ ধরনের আয়োজন সেই প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। নতুন নতুন স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ উদ্ভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে বিকশিত করার জন্য জেলা প্রশাসন সবসময় সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শিত বিভিন্ন বিজ্ঞান প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল সক্ষমতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD