Logo

বেনজীরের মুক্তি নিয়ে তথ্য দিচ্ছে না দুবাই পুলিশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:৫৭
বেনজীরের মুক্তি নিয়ে তথ্য দিচ্ছে না দুবাই পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না দুবাই পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত বা বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় এ ধরনের তথ্য তারা প্রকাশ করে না।

রবিবার (২ আগস্ট) বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ইমেইলের মাধ্যমে দুবাই পুলিশ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জনসমক্ষে দেওয়া তাদের নীতির মধ্যে পড়ে না।

সংস্থাটি আরও জানায়, এ ধরনের তথ্য জানতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে নির্ধারিত পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জামিন পেলেও আদালতের আরোপিত শর্ত অনুযায়ী বেনজীর আহমেদ আপাতত দুবাই ছেড়ে যেতে পারবেন না। তাঁর পাসপোর্টও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রয়েছে। যদিও পারিবারিক সূত্র বলছে, ভবিষ্যতে ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

এদিকে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পৌঁছেনি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনার পর আদালত শর্তসাপেক্ষে তাঁকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। দুবাই পুলিশের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সমন্বয়ে এ গ্রেপ্তার কার্যকর হয়। পরে গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে অবহিত করে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে দেশে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তাঁর নামও অন্তর্ভুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দুদক তদন্ত শুরু করে। অভিযোগের পর তিনি দেশ ছেড়ে যান। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD