Logo

বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরে আনা হচ্ছে কবে?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৩৭
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরে আনা হচ্ছে কবে?
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। দেশটির সরকার নীতিগতভাবে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরে সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে প্রত্যর্পণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এখনও বেশ কিছু আইনি, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

দুদকের মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যেসব মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়েছিল, সেগুলোর প্রাথমিক নথি পর্যালোচনা করার পর দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে। এ পর্যায়ে তারা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার জন্য আরও কিছু আইনি ও কারিগরি তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নথি প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও প্রস্তুত করার পর তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে নথিগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, যেহেতু মামলাগুলোর তদন্ত করছে দুদক, তাই প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র প্রস্তুতের দায়িত্বও তাদের ওপর রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত কীসের ওপর নির্ভর করবে

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় পুরো বিষয়টি আদালত ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত চারটি বিষয় আদালতের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এগুলো হলো—অভিযোগের পক্ষে যথাযথ তথ্য-প্রমাণ, দুই দেশের আইনে অপরাধের সামঞ্জস্য, আদালতে উপস্থাপিত নথির গ্রহণযোগ্যতা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলেন, এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই দেশটির আদালত সিদ্ধান্ত নেবে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে কি না।

বিজ্ঞাপন

আদালতের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ

দুবাই পুলিশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি গ্রহণ করেছে। ওই নথিতে মামলার বিবরণ, প্রাথমিক প্রমাণ এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এখন দ্বিতীয় দফায় আরও তথ্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এরপর আদালত যাচাই করবে, বাংলাদেশে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, সেটিও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

কূটনৈতিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও এই মামলায় বড় ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ সরকার যদি সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ বজায় রাখে, তাহলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী ওলোরা আফরিনের মতে, আদালতের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

কী কী মামলা রয়েছে

দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একটি তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের মামলার ভিত্তিতেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয় এবং পরে দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চ্যালেঞ্জ কোথায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেড নোটিশ জারি হলেও প্রত্যেক ক্ষেত্রে আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। অনেক সময় দ্বৈত নাগরিকত্ব, বিদেশি পাসপোর্ট বা স্থায়ী আবাসনের মতো বিষয়গুলো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, বিনিয়োগের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদ তুরস্কের নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব তথ্য সত্য হয়, তাহলে তার আইনজীবীরা আদালতে এসব বিষয় তুলে ধরতে পারেন। তবে কেবল বিদেশে বিনিয়োগ বা আবাসিক মর্যাদা থাকলেই প্রত্যর্পণ ঠেকানো সম্ভব হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

কতদিন লাগতে পারে

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনই নির্দিষ্ট সময় বলতে না পারলেও ধারণা করছেন, সব আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুদকের মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া মাত্র শুরু হয়েছে। তাই এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত পাঠানো গেলে এবং আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে এগোলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

অতীতেও ফিরেছে পলাতক আসামি

বাংলাদেশ অতীতেও ইন্টারপোলের সহায়তায় বিদেশে অবস্থানকারী একাধিক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে প্রত্যর্পণের নজির রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হস্তান্তরসংক্রান্ত দুটি পৃথক চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এসব চুক্তির আওতায় অতীতেও একাধিক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদের মতো উচ্চপ্রোফাইল মামলায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আদালতের রায়, দুই দেশের আইনি কাঠামো এবং কূটনৈতিক সমন্বয়ের ওপর। তাই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD