বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চিঠি দিয়েছে দুদক

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে চিঠিটি পাঠানো হয়। দুদকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করতেও কাজ করছে দুদক।
বিজ্ঞাপন
দুদকের তদন্তে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এর মধ্যে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থার দাবি, অনুসন্ধানে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যার বড় অংশের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তদন্তে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং বান্দরবানসহ বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমির তথ্য উঠে আসে। এছাড়া তাদের নামে বিভিন্ন স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদেরও খোঁজ মিলেছে।
বিজ্ঞাপন
শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও তার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে থাকা বেনজীর আহমেদের একটি ফ্ল্যাট ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে শনাক্ত ও আটক করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এখন কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
দুদকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে চলমান মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইনি কাঠামো ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।








