বেনজীরের মুক্তির আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই, দুদকের গাফিলতি ছিল না

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারামুক্ত হয়েছেন—এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছেনি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় দুদকের কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেছে কমিশন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দুদকের মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তারা কেবল সংবাদমাধ্যমের খবরের মাধ্যমেই অবগত হয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য না পেলেও আইনি প্রক্রিয়ায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথভাবে গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত কোনো আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দুদক কাজ করেছে। এ কারণে এ ঘটনায় কমিশনের গাফিলতির অভিযোগ সঠিক নয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে একই দিনে দুদকের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাইদুর রহমান খান। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন।
বিজ্ঞাপন

এর আগে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে গত ১৬ জুন ইংরেজি ও আরবি ভাষায় প্রস্তুত করা প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে কোনো আসামি গ্রেপ্তার হলে তাকে প্রত্যর্পণের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংযুক্ত করে আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো হয়।
দুদক জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিভিত্তিক এনসিবি গত ১২ জুন বাংলাদেশকে চিঠির মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবহিত করে। ওই চিঠিতে জানানো হয়, দেশটির ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা-সংক্রান্ত আইনের আওতায় ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এরও আগে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্তের সময় আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে দুদক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেয়।
দুদকের তদন্তে উঠে আসে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটির বেশি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন, যার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
তদন্তে আরও জানা যায়, দুদকের নির্দেশে সম্পদের বিবরণী জমা দিলেও বেনজীর আহমেদ ঘোষিত সম্পদের বাইরে প্রায় ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।








