Logo

কখনো কল্পনাও করিনি ছেলে এভাবে মারা যাবে: লিমনের বাবা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মে, ২০২৬, ১৫:৪৯
কখনো কল্পনাও করিনি ছেলে এভাবে মারা যাবে: লিমনের বাবা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। ছেলের মরদেহ গ্রহণ করতে এসে শোকাহত বাবা জহুরুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কখনো কল্পনাও করিনি আমার ছেলে এভাবে মারা যাবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে লিমনের মরদেহবাহী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মরদেহ গ্রহণ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে লিমনের বাবা বলেন, আমার ছেলে দুইটাকে তিলে তিলে বড় করার চেষ্টা করেছি, কোনো প্রকার কষ্ট দেইনি, কোনো প্রকার আঘাত করিনি। কোনোদিন শারীরিক শাস্তি দিইনি ওদের। যা শাসন করেছি, আমি মুখে শাসন করেছি। আমি কখনো কল্পনাও করিনি, আমার ছেলে এভাবে মারা যাবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, তার ছেলে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে শেষ সময় কাটিয়েছে, তা কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লিমনের মরদেহ জামালপুরের মাদারগঞ্জে তাদের পৈত্রিক বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

লিমনের এক আত্মীয় জানান, পরিবারের সঙ্গে কখনো কোনো ঝামেলা বা উদ্বেগের কথা শেয়ার করেননি তিনি। তার জীবনযাপন স্বাভাবিক বলেই মনে হতো। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, লিমন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। একই সময়ে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নামে আরেক বাংলাদেশি তরুণী। পরে তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

ঘটনার তদন্তে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করার কথাও বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার টাম্পা বে এলাকার একটি ইসলামিক সেন্টারে লিমনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

অন্যদিকে, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন পর গত ২৬ এপ্রিল ম্যানগ্রোভ এলাকায় মাছ শিকার করতে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি একটি কালো পলিথিন দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পলিথিনের ভেতর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন ওই এলাকায় উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলো প্রথমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ৩০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে হিসলবরো কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করেন, সেগুলো নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির দেহাংশ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD