Logo

জনগণের আস্থা অর্জনই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মে, ২০২৬, ১৩:২১
জনগণের আস্থা অর্জনই রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করার জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা। তাই প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৬ মে) রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, তাদের পরিবার, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনের সেবার মানের ওপরই জনগণের আস্থা নির্ভর করে। সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়া সম্মানের সঙ্গে দ্রুত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের সঙ্গে কর্মকর্তাদের আন্তরিক আচরণ সরকারের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করে।

তিনি বলেন, প্রশাসন কেবল আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবা নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম। তাই মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উচিত আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা। বিশেষ করে বৃদ্ধ, অসুস্থ কিংবা অসহায় মানুষ সেবা নিতে এসে যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগের শিকার না হন, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সামনে যেমন নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি বিপুল সম্ভাবনাও রয়েছে। বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে সেটিই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, একটি পরিবার রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষুদ্র ইউনিট, আর অসংখ্য পরিবার মিলেই একটি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোও আরও সুসংহত হয়।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থনে গৃহীত ইশতেহার এখন শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং পুরো দেশের মানুষের প্রত্যাশার দলিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ ক্ষেত্রে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের বড় দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তায়। প্রশাসনের সফলতা শেষ পর্যন্ত সরকারের সফলতা হিসেবেই বিবেচিত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক। তাই সাধারণ মানুষ যখন সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসবেন, তখন তারা যেন রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে সম্মান ও মর্যাদা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, প্রশাসনকে আরও জনমুখী করে তুলতে হবে। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করলে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। অন্যদিকে হয়রানি বা দুর্ব্যবহার জনগণের আস্থা নষ্ট করে দেয়।

এর আগে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে সম্মেলন কেন্দ্রে পৌঁছান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। এছাড়া বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনের শেষপর্বে প্রধানমন্ত্রীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন অতিথিরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD