ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী তুলে নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার প্রয়োজন নেই।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ বাহিনীকে পুনরায় কার্যকর ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি জনগণের মধ্যেও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই এখন সেনাবাহিনীকে ধাপে ধাপে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এ দায়িত্ব বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই পালন করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে কীভাবে সেনা প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়াড়ি এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সময় শেষ হয়ে যায়নি। অভিযান এখনও চলছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। প্রতিনিয়ত দাগী আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আবার কিছু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৃথকভাবেও অভিযান পরিচালনা করছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বড় অপরাধচক্র বা ‘গডফাদারদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের বাইরে কেউ নয়। যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, সরকারের চলমান অভিযান ও তৎপরতার কারণে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে। যদিও এ বিষয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।








