অমানবিক নির্যাতনের শিকার তারেক রহমান, অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

১/১১ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংবাদমাধ্যম মানবজমিনের প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে সরাসরি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তৎকালীন ঊর্ধ্বতন সামরিক নির্দেশনার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে ডিজিএফআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে একাধিক সামরিক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন জবানবন্দি ও তথ্যের বরাতে বলা হয়, জেআইসিতে তাকে কয়েকদিন ধরে আটক রাখা হয় এবং চোখ বেঁধে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
সেখানে আরও বলা হয়, তাকে হাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা এবং অমানবিক আচরণের ঘটনা ঘটেছিল।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারেক রহমানকে জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় উপস্থিত কয়েকজন কর্মকর্তার নামও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
একাধিক সাবেক সামরিক কর্মকর্তার জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতনের ফলে তারেক রহমান শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে চলাফেরাতেও সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি পরবর্তীতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে পারিবারিক কারণে তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হলে তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায় বলে এক সময়ের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন। ওই সময় থেকেই নির্যাতনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এ ঘটনায় সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। তবে একজন সাবেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি এ ধরনের কোনো নির্যাতনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে একটি লিখিত অঙ্গীকারপত্র নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, পুরো বিষয়টি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ১/১১ সময়কার ঘটনাপ্রবাহ ও তৎকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।








